চলল যমুনা-সিনান আশে।
সহচরিগণ রাধারে পুছে।।
“দেখিলে বনের দেবতা কৈছে।
কেমন বরণ ভূষণ তৈছে।।
কেমন মূরতি কহ না রাধে।
কত সুখ কৈলে মনের সাধে।।
কেমন দেবতা কোন বা স্থান।
কেমন মূরতি কি তার নাম।।”
রাধা কহে তবে সভার আগে।
“শুনহ শ্রবণে ঐছন রাগে।।
পূজল নৈবেদ্য সুগন্ধ ফুলে।
তিঁহ সে থাকেন বটের মূলে।।
… … …মুরতি কায়া।
দেখিতে না পাই কনহুঁ ছায়া।।
যখন পূজল নৈবেদ্য ফুলে।
… … … ঘনে বুলে।।
শব্দ শুনিতে কাঁপল দেহ।
না দেখি মূরতি শব্দ এহ।।
… … …দেখি রূপ।
উঠিল লহরি ভয়ের কূপ।।
তরাসে এ অঙ্গ শৈবাল ফুলে।
… … …যেমন টলে।।
… … মোর অঙ্গ তৈছন হয়।
বড়ই অন্তরে লাগর ভয়।।
বন … … …. কানে ।
নাহিক মূরতি কহিল মনে।।”
কহে রসবতি সুন্দরী রাধা।
“পূজল সেখানে করিয়া সাধা।।
একেলা গেলড়ি দেবের স্থানে।
তোমার এখানে রহিলে কেনে।।”
কহে সহচরী রাধার পাশে।
“কহিলা সুবল আমার কাছে।।
আন জন গেলে দেবের ক্রোধ ।
আমরা পাই সে মনের বোধ।।
তেই সে না গেলুঁ তোমার সাথে।
আমরা রহিলুঁ এই সে পথে।।”
হাসি রসবতি নবীন রাই।
দীন চণ্ডীদাস এগুণ গাই।।