সন্ধ্যা-আরতি কীর্ত্তন
ভজ নিতাই গৌর রাধে শ্যাম।
জপ হরে কৃষ্ণ হরে রাম।।

শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গের সন্ধ্যা-আরতি

—ঃঃ—-
শ্রীগুরু-প্রেমানন্দে নিতাই গৌর হরিবোল
ভজ নিতাই গৌর রাধে শ্যাম।
জপ হরে কৃষ্ণহরে রাম।।
‘‘ভালি গোরাচাঁদের আরতি বনি।’’

আরে কিবো,–ভালি গোরাচাঁদের—ভালি গোরাচাঁদের—ভালি গোরাচাঁদের

আরে কিবা,–ভালি গোরাচাঁদের
আমরি—ভালি রে ভালি রে ভালি

আমাদের,–ভালি শচীদুলালিয়া—ভালি রে ভালি রে ভালি
আমাদের,–প্রাণ শচীদুলালিয়া—ভালি রে ভালি রে ভালি
‘আমাদের,–প্রাণ শচীদুলালিয়া’—
আমাদের,–নদীয়া-বিনোদিয়া—প্রাণ শচীদুলালিয়া

[মাতন]
আ’মরি,–ভালি রে ভালি রে ভালি

আমাদের,–সীতানাথের আনানিধি—ভালি রে ভালি রে ভালি
‘আমাদের,–সীতানাথের আনানিধি’—
গঙ্গাজল-তুলসী দিয়ে—সীতানাথের আনানিধি
অনশনে,–হা কৃষ্ণ বলে কেঁদে—সীতানাথের আনানিধি

আ’মরি,–ভালি রে ভালি রে ভালি

আমাদের—গোরা দ্বিজমণিয়া—ভালি রে ভালি রে ভালি
আমাদের,–গদাধরের প্রাণবঁধুয়া—ভালি রে ভালি রেভালি
‘আমাদের,–গদাধরের প্রাণবধুয়া।’—
কীর্ত্তন-কেলিরস-বিনোদিয়া—গদাধরের প্রাণবঁধুয়া

[মাতন]
আ’মরি,–ভালি রে ভালি রে ভালি

শ্রীবাস-অঙ্গনের নাটুয়া—ভালি রে ভালি রে ভালি
আমাদের,–নরহরি চিতচোরা—ভালি রে ভারি রে ভালি
‘নরহরির চিতচোরা’—
আমাদের,–রসময় প্রাণগোরা—নরহরির চিতচোরা

[মাতন]
আ’মরি,–ভালি রে ভালি রে ভালি
আ’রে,–‘‘ভালি গোরাচাঁদের আরতি বনি।
বাজে সঙ্কীর্ত্তনে সুমধুর-ধ্বনি।।
কিবা—শঙ্খ বাজে ঘন্টা বাজে বাজে করতাল।’’
আরে কিবা,–শঙ্খ বাজে ঘন্টা বাজে
বাজে নিতাই-গৌর আগে রে
আ’মরি,–বাজে নিতাই-গৌর-আগে

আ’মরি—নানাবিধ বাদ্যযন্ত্র—বাজে নিতাই-গৌর-আগে

আজ মেনে তারাই বাজায় গো
আজ মেনে তারাই বাজায়

যারা ব্রজে বাজাইত—আজ মেনে তারাই বাজায়
‘যারা ব্রজে বাজাইত’—
মধুর-শ্রীনন্দালয়ে—যারা ব্রজে বাজাইত
‘মধুর-শ্রীনন্দালয়ে’—
মদনগোপালের আরতি-কালে—মধুর-শ্রীনন্দালয়ে

[মাতন]

যারা ব্রজে বাজাইত—আজ মেনে তারাই বাজায়
আমার—গৌরগণ সব ব্রজজন রে –আজ মেনে তারাই বাজায়
মধুর-শ্রীনবদ্বীপে—আজ মেনে তারাই বাজায়

তাদের,–না চলে চয়ন-তারা

গোরা-রসের বদন হেরি—তাদের,–না চলে নয়ন-তারা
তাদের,–আঁখিতারা-বেয়ে পড়্‌ছে ধারা—তাদের,–না চলে নয়ন-তারা

তারা,–হয়ে গেছে আত্মহারা

হেরি, চিতচোর রসের গোরা—তারা,–হয়ে গেছে আত্মহারা

আজ মেনে তারাই বাজায়
কিবা—‘‘শঙ্খ বাজে ঘন্টা বাজে বাজে করতাল।
আর, মধুর-মৃদঙ্গ বাজে শুনিতে রসাল।।’’
কিবা,–‘‘বিবিধ-সুষম-ফুলে বনি বনমালা।’’

আরে কিবা,–বিবিধ-সুষমে-ফুলে—বিবিধ-সুষম-ফুলে—বিবিধ-সুষম-ফুলে

আরে কিবা,–বিবিধ-সুষম

গৌর-গলে—বিবিধ-সুষম

মালা,–দোলে নিতাই-গৌর-গলে রে
মালা,–দোলে নিতাই-গৌর-গলে
বিবিধ-সুষমের মালা—দোলে নিতাই-গৌর-গলে
মালা,–না দোলাতে আপনি দোলে

গোরা-রসের অঙ্গ পরশ পেয়ে—মালা,–না দোলাতে আপনি দোলে
গোরার লাবণ্য-হিল্লোল-মালা,–না দোলাতে আপনি দোলে
ও সে,–মালার গুণ কি গলার গুণ রে—মালা-না দোলাতে আপনি দোলে

মালা,–বিনোদ বিনোদ বিনোদ দোলে

বিনোদ-ফুলের বিনোদ-মালা—বিনোদ বিনোদ বিনোদ দোলে
গৌর-বিনোদিয়ার গলে মালা—বিনোদ বিনোদ বিনোদ দোলে
বিনোদ-সূত্রে গাঁথা-মালা—বিনোদ বিনোদ বিনোদ দোলে
‘প্রিয়,–গদাধরের গাঁথা-মালা—বিনোদ বিনোদ বিনোদ দোলে
‘প্রিয়,–গদাধরের গাঁথা-মালা’—
নরহরির চয়ন-কার-ফুলে—প্রিয়,–গদাধরের গাঁধা—মালা

[মাতন]

মালা,–বিনোদ বিনোদ বিনোদ দোলে

কিবা,–‘‘বিবিধ-সুষম-ফুলে বনি বনমালা।
শত-কোটি-চন্দ্র জিনি বদন উজালা।।
আরে,–ব্রহ্মা-আদি দের যাঁকো করযোড় করে।’’
আরে কিবা,–ব্রহ্মা-আদি দেব
তারা,–করযোড়ে প্রস্তুতি করে
আ’মরি,–করযোড়ে স্তুতি করে

গোরা –রসের বদন-পানে চেয়ে—তারা—করজোড়ে স্তুতি করে

বলে কেন দেবতা করিলে মোদের

দেব,-অভিমানে, তোমায়, ভজ্‌তেনারিলাম—বলে, কেন দেবতা করিলে মোদের

কেন,–নরদেহ না দিলে মোদের

আমরা,–সঙ্গে ফিরিতাম লীলা হেরিতাম—কেন,–নরদেহ না দিলে মোদের
‘আমরা,–সঙ্গে ফিরিতাম লীলা হেরিতাম’–
প্রেম-পাথারে সাঁতার দিতাম—সঙ্গে ফিরিতাম লীলা হেরিতাম

[মাতন]

বলে কেন,–নরদেহ না দিলে মোদের
আরে,–‘‘ব্রহ্মা-আদি দেব যাঁকো করযোড় করে।
সহস্রবদনে ফণী শিরে ছত্র ধরে।।
আরে,–শিব শুক নারদ বেদ বিসারে।’’

আরে কিবা,–শিব শুক নারদ
তারা—বেদ-বিধি পাসরিল রে
তারা—বেদ-বিধি পাসরিল

বিধির,-অগোচর-গৌরাঙ্গ হেরে—তারা,–বেদ-বিধি পাসরিল

তারা,–ভাবানুগা হয়ে গেল

মহা,–ভাব-নিধি-গৌরাঙ্গ হেরে—তারা,–ভাবানুগী হয়ে গেল

‘‘শিব শুক নারদ বেদ বিসারে
নাহি পরাৎপর ভাব-বিভোর।।
শ্রীনিবাস হরিদাস মঙ্গল গাওয়ে।।’’
ঘিরে ঘিরে,–শ্রীনিবাস হরিদাস

গৌর ঘিরে—শ্রীনিবাস হরিদাস

গৌর-মঙ্গল গান করে রে
আ’মরি,–গৌর-মঙ্গল গান করে

আমরি,–মধুর-পঞ্চম-স্বরে—গৌর-মঙ্গল গান করে
আমরি,–প্রেমস্বরে প্রাণভরে—গৌর-মঙ্গল গান করে
আমরি,–গোরা-রসের বদন হেরে—গৌর-মঙ্গল গান করে

তাদের,–বয়ান ভাসে নয়ান-নীরে

তারা,–গৌর-মঙ্গল গান করে—আর তাদের, বয়ান বাসে নয়ান-নীরে
আ’মরি,–’‘শ্রীনিবাস হরিদাস মঙ্গল গাওয়ে
নরহরি গদাধর চামর ঢুলাওয়ে।।
বীরবল্লভ দাস শ্রীগৌর-চরণে আশ।’’

আরে, –বীরবল্লভ

আশা করে—বীরবল্লভ

বলে,–আর কতদিনে পাব রে
আর কতদিনে পাব
আমি,–আর কতদিন পাব

আমাদের,–প্রাণ শচীদুলালিয়া—আমি—আর কতদিনে পাব
আমাদের,–নদীয়া-বিনোদিয়া—আমি,–আর কতদিনে পাব
আমাদের,–সীতানাথের আনানিধি—আমি,–আর কতদিনে পাব
আমাদের,–গদাধরের প্রাণ-বধুঁয়া—আমি,–আর কতদিনে পাব
‘আমাদের,–গদাধরের সেব্য-পদ—আমি,–আর কতদিনে পাব
‘আমাদের,–গদাধরের সেব্য-পদ’—
ধরণীর সুসম্পদ—আমাদের,-গদাধরের সেব্য-পদ

[মাতন]
আমি,–আর কতদিনে পাব

আমাদের,–শ্রীবাস-অঙ্গনের নাটুয়া—আমি,–আর কতদিনে পাব
আমাদের,–নরহরির চিতচোর গৌর—আমি,–আর কতদিনে পাব

‘‘বীরবল্লভ দাস শ্রীগৌর-চরণে আশ।
জগভরি রহল মহিমা প্রকাশ।।
—-ঃঃ—-

শ্রীশ্রীরাধারাণীর সসন্ধ্যা আরতি

–ঃঃ—
‘জয় জয় রাধেজীকো শরণ তোঁহারি
আরে কিবা,–জয় জয় রাধে

আরে কিবা, জয় জয় রাধেজীকো, জয় জয় রাধেজীকো, জয় জয় রাধেজীকো

আরে কিবা—জয় জয় রাধে

জয় জয় রাধেজীকো—জয় জয় রাধে

[ঝুমুর]
একবার জয় দাও ভাই

আমাদের রাধা-প্যারীর—একবার জয় দাও ভাই
আমাদের,–ভানুদুলারী—প্যারীর—একবার জয় দাও ভাই,

[মাতন]

আরে কিবা,–জয় জয় রাধেজীকো—জয় জয় রাধে

আরে—জয় জয় রাধে
আজু,–জয় রে জয় রে জয়

আমাদের,–ভানু-দুলারী রাধা-প্যারী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–নওয়লা কিশোরী গোরী—জয় রে জয় রে জয়
ঠাকুরাণী হামারি—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–বৃন্দাবন-বিলাসিনী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–রমণী-মুকুটমণি—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–মহাভাব-স্বরূপণী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–গাম্ভীর্য-শালিনী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,-মাধুর্য্য-কাদম্বিনী ধনী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–ললিতা-জীবনী ধনী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–বিশাখা-সখ্য-সুখিনী ধনী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–পুরট-পদ্মিনী ধনী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–কৃষ্ণপ্রেম তরঙ্গিণী—জয় রে জয় রে জয়
আমাদের,–মোহন-মোহিনী ধনী—জয় রে জয় রে জয়

‘‘জয় জয় রাধেজীকো শরণ তোঁহারি।
ঐছন আরতি যাঙ বলিহারি।।
পাট-পটাম্বর ওঢ়ে নীলশাড়ী।’’

আরে কিবা,–পাট-পটাম্বর—পাট-পটাম্বর—পাট-পটাম্বর

আরে কিবা,–পাট-পটাম্বর
গোরী-অঙ্গে,–পাট-পটাম্বর
আজু,–ভাল সেজেছে গোরী

নীলপট্ট-শাড়ী ওঢ়ি—ভাল সেজেছে গোরী

যেন,–থির-বিজুরী লুকায়ে আছে

নীলবসন-মেঘের আড়ে—যেন,–বিজুরী লুকায়ে আছে

যেন,–মেঘে ঢাকা থির-বিজুরী

আমাদের,–রাই-অঙ্গে নীলপাটের শাড়ী,–যেন,–মেঘে ঢাকা থির-বিজুরী
‘‘পাট-পটাম্বর ওঢ়ে নীলশাড়ী।
সিঁথিপর সিন্দূর যাঙ বলিহারি।।
বেশ বনাওত প্রিয়-সহচরী।’’

আরে কিবা,–বেশ বনাওত—বেশ বনাওত—বেশ বনাওত

আরে কিবা,–বেশ বনাওত
সহচরী,–বেশ বনাওত
আবেশে,–বেশ বনাওত

আরে কিবা,–বেশ বনাওত—বেশ বনাওত

[ঝুমুর]
আরে কিবা,–বেশ বনাওত
আমরি,–মন-সাধে সাজাওত রে

যত সেবাপরা সহচরী—মন-সাধে সাজাওত রে

তারা—সাজাইতে ভালবাসে

যত সেবাপরা সহচরী—তারা,–সাজাইতে ভালবাসে

রাই সাজাতে ভালবাসে
তারা,–রাই-সেবা-সুখে সদাই ভাসে
তারা,–রাই-সেবার লাগি ঘর পরবাসে
তারা,–রাই-সেবার লাগি বন গৃহবাসে
আ’মরি,–মন-সাধে সাজাওত রে

সেবা-সুখোন্মত্তা ব্রজ-বণিতা-মন-সাধে সাজাওত রে
রাইএর,—যে অঙ্গে যার অধিকার—মন-সাধে সাজাওত রে
তাদের,–যে বেশে যার নিপুণতা—মন-সাধে সাজাওত রে
রাইএর,–যে অঙ্গে যা ভাল সাজে—মন-সাধে সাজাওত রে

ভূষণ,–একবার পরায় একবার খসায়

তাদের,–সেবা-আশ ত’ মিটে না রে—ভূষণ,–একবার পরায় একবার খসায়

বলে,–যা যা ভূষণ তুই খসে যা রে

আমরা না হয় আবার পরাই—যা যা ভূষণ তুই খসে যা রে

আমরি—মন-সাধে সাজাওত
আর একবার,–একবার রাইএর বদন হেরে

দেখে,–রাই সেবায় সুখী হতেছেকি না—তাই একবার,–একবার-

রাইএর বদন হেরে
কিবা,—‘‘বেশে বনাওত প্রিয়-সহচরী।
রতন-সিংহাসনে বৈঠলী গোরী।।
কিবা,–রতনে জড়িত মণি-মাণিক-মোতি।’’

আরে কিবা,–রতনে জড়িত মণি—রতনে জড়িত মণি—রতনে জড়িত মণি

আরে কিবা,রতনে জড়িত
রতনমণি,–রতনে জড়িত
আমাদের রাই,–রতন-মণি গো
ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি

বরজ-মুকুটমণি—ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি
বিংশতি,–ভাব-ভূষণে বিভুষিণী—ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি
রমণীর শিরোমণি—ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি
বৃষভানু-রাজনন্দিনী—ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি
অঙ্গেশোভে,–আভরণ বহুমণি—ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি
ভূষণের ভূষণী ধনী—ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি
প্রেমময়ী ঠাকুরাণী—ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি
শ্যাম-গরবের গরবিণী—ওগো,–রাই আমাদের রতন-মণি

ওগো,–আমাদের রাই রতন-মণি
মণি, ঝলম্‌ল ঝল্‌মল ঝল্‌মল করে

রাই-অঙ্গ-ছটা লেগে—মণি, ঝল্‌মল ঝল্‌মল ঝল্‌মল করে

কিবা,–‘‘রতনে জড়িত মণি-মাণিক-মোতি।
ঝলমল আভরণ প্রতি-অঙ্গ-জ্যোতি।।
কিবা,–চুয়া চন্দন গন্ধদেই ব্রজবালা।
বৃষভানু-রাজনন্দিনী-বদন উজলা।।
আমরি,–চৌদিকে সখীগণ দেই করতালি।’’

আরে কিবা,–চৌদিকে সখীগণ –চৌদিকে সখীগণ—চৌদিকে সখীগণ

কিবা,–চৌদিকে সখীগণ
রাই ঘিরে,–চৌদিকে সখীগণ

চৌদিকে সখীগণ—চৌদিকে সখীগণ

[ঝুমুর]
আমাদের রাই ঘিরে,–চারিদিকে দাঁড়াল রে
তারা,–করতালি দিয়া নাচে

আলী-মণ্ডলী-মেলি—তারা—করতালি দিয়া নাচে

তাদের,–আনন্দ আর ধরে না রে
তারা—রাই ঘিরে দাঁড়াইল
আ’মরি—যাই রে শোভার বালাই যাই রে
যেন,–চাঁদকে ঘিরে চাঁদের মালা

আমাদের,–রাই ঘিরে যত ব্রজবালা—যেন,–চাঁদকে ঘিরে চাঁদের মালা

আ’মরি,–‘‘চৌদিকে সখীগণ দেই করতালি
আরতি করতহিঁ ললিতা-পিয়ারী।।
নব নব ব্রজবধূ মঙ্গল গাওয়ে।।’’

আরে কিবা,–নব নব ব্রজবধূ—নব নব ব্রজবধূ—নব নব ব্রজবধূ

আরে কিবা,–নব নব ব্রজবধূ

আরে কিবা,– নব নব ব্রজবধূ—নব নব ব্রজবধূ

[ঝুমুর]
তারা সবে,–নব নব অনুরাগিনী

তারা,–বয়সে সবাই তরুণী—তারা সবে,–নব নব অনুরাগিণী
তারা,–রূপে গুণে কেউ নয় উনী—তারা সবে,–নব নব অনুরাগিণী

তারা,–সুকণ্ঠিনী সুযন্ত্রিণী

তারা,–কোকিলা—কলভাষিণী—সুকণ্ঠিনী সুযন্ত্রিণী

শ্রী,–রাধামঙ্গল গাওত রে

কোকিলা—পঞ্চম-স্বরে—শ্রী,–রাধামঙ্গল গাওত রে
শ্রীরাধে জয় রাধে বলে—শ্রী,–রাধামঙ্গল গাওত রে

যেন,–কোকিলা-কূপ কূহরত রে

নব নব ব্রজবালা গাওত—যেন,–কোকিলা—কূল কূহরত রে

কোকিলা-কুল

রাই-প্রেমাকুল—কোকিলা-কুল

যেন,–পদ্মিনী-মালা গাওত রে

‘যেন,–পদ্মিনী-মালা’—
আধ আধ বিকসিত-পদ্মিনী-মালা।

যেন,–পদ্মিনা-মালা গাওত রে

রাই-কমলিনী ঘিরে ব্রজবালা—যেন,–পদ্মিনী-মালা গাওত রে

কিবা,–‘‘নব নব ব্রজবধূ মঙ্গল গাওয়ে।
প্রিয়-নর্ম্ম-সখীগণ চামর ঢুলাওয়ে।।’
যত সহচরী চামর ঢুলায়

আমাদের,–রাই-রসের বদন হেরি—যত সহচরী চামর ঢুলায়
অনুরাগে জগমগ হেয়—যত সহচরী চামর ঢুলায়
শ্রী,–‘‘রাধাপদ-পঙ্কজ ভকতহিঁ আশা।’’

শ্রীরাধাপদ-পঙ্কজ
আমি,–আর কতদিনে পাব

গরবিণীর রাতুলচরণ—আমি,–আর কতদিনে পাব
সে,–অলক্ত-রঞ্জিত-পদ—আমি,–আর কতদিনে পাব
শ্যাম-নাগরের সেব্যপদ—আমি,–আর কতদিনে পাব
শ্যাম-নামাঙ্কিত-পদ—আমি,–আর কতদিনে পাব
‘শ্যাম-নামাঙ্কিত-পদ’—
যাবকের ধারে ধারে—শ্যাম-নামাঙ্কিত-পদ

আর কতদিনে পাব

রাধাদাসী নাম ধরাইব—আর কতদিনে পাব

গরব করে বেড়াইব

আমরা,–গরবিণীর দাসী বলে—গরব করে বেড়াইব

শ্রী,–রাধাপদ-পঙ্কজ ভকতহিঁ আশা।
দাস মনোহর করত ভরসা।।’’
——–
শ্রীশ্রীমদনগোপালের সন্ধ্যা-আরতি
—ঃঃ—
‘‘হরত সকল,- সন্তাপ জনমকো,’’
আমরি—সকলসন্তাপ দূরে যায় গে

আমার মদনগোপালের,–অলকাবৃতবদন হেরে—সকলসন্তাপ দূরে যায় গো
আমার মদনগোপালের,–হাসিয়া বাঁশিয়া বদন হেরে—সকল-সন্তাপ দূরে-যায়ে গো
আমার মদনগোপালের,–মুরলী-রঞ্জিত-বদন হেরে—সকল-সন্তাপ দূরে-যায় গো
আমার মদনগোপালের,–বংশীগানামৃতধাম হেরে—সকল-সন্তাপ দূরে-যায় গো
আমার মদনগোপালের,–লাবণ্যমৃত-জন্মস্থান হেরে—সকল-সন্তাপ দূরে-যায় গো

আমরি,–সকল-সন্তাপ দূরে যায় গে
‘‘হরত সকল,– সন্তাপ জনমকো,
মিটত তলপ যম-কালকী।
শুভ,–আরতি কিয়ে জয় জয় মদনগোপালকী।।
গোঘৃত-রচিত, কর্পূরক বাতি,’’
মা-নন্দরাণী সাজায়েছে

মদনগোপালের আরতি লাগি—মা-নন্দরাণী সাজায়েছে

মা আমার,–বিশুদ্ধ—বাৎসল্যের খনি
কত,- যতনে করে সাজায়েছে

গোঘৃত-কপূর্বের বাতি মা—কত,–যতন করে সাজায়েছে

কত,–যতন করে আরতি করে

ভাসি,–স্তন-ক্ষীরে আঁখি-নীরে—মা কত,–যতন করে আরতি করে

‘‘গোঘৃত-রচিত, কর্পূরক বাতি,
ঝলকত কাঞ্চন-থালকী।
চন্দ্র কোটি কোটি, ভানু কোটি জ্যোতি,’’
ছার,–গগণচাঁদে কিসে বা গণি

মদনগোপালের,–চাঁদ-বদন আগে—ছার,–গগণচাঁদে কিসে বা গণি

ছার,–গগণচাঁদে কলঙ্ক আছে

এ যে নিশিদিশি,–অকলঙ্ক ষোল-কলা—ছার,–গগণচাঁদে কলঙ্ক আছে

অভিমানে দশ খণ্ড হল

এই,–বদন হেরে গগণচাঁদ—অভিমানে দশ খণ্ড হল
আসি,–ঐ পদ-নখে শরণ নিল—অভিমানে দশ খণ্ড হল

‘‘চন্দ্র কোটি কোটি, ভানু কোটি জ্যোতি,
মুখ-শোভা-আভা নন্দলালকী।।
চরণ-কমলোপর, নূপুর রাজে,
উরে দোলে বৈজয়ন্তী-মালকী।
মযূর-মুকুট, পীতাম্বর শোভে,’’
যেন,–নব-মেঘ ইন্দ্রধনু

মদনগোপাল-চূড়ে শিখি-পাখা—যেন,–নব-মেঘ ইন্দ্রধনু

যেন,–মেঘের উপর ময়ূর নাচে

নবঘন-ঘিরে শিখি-পাখা-যেন,-মেঘের উপর ময়ূর নাচে

‘‘ময়ূর-মুকুট, পীতাম্বর শোভে,
বাজত বেণু রসালকী।।
সুন্দর লোল,- কপোলন কিয়ে ছবি,’’
বদন-কমল,–সহজেই ত’ হাসি মাখা

তাতে আবার,–অলকাবলি যেন ভৃঙ্গ-রেখা—বদন-কমল,–সহজেই ত’ হাসি মাখা

‘‘সুন্দর লোল,– কপোলন কিয়ে ছবি,
নিরখত মদনগোপালকী।
সুর-নাম-মুনিগণ, হেরতহিঁ আরতি,’’
গোপবেশে আসি নন্দালয়ে

মদনগোপালের আরতি-কালে—গোপবেশেআসি নন্দালয়ে

তারা—কেউ কারে লখিতে নারে
আজ হল,–সুরে নরে মিশামিশি

মদনগপালের-আরতিকালে নন্দালয়ে-আজ হল,-সুরে সুরে মিশামিশি

‘‘সুর-নর-মুনিগণ, হেরতহিঁ আরতি,
ভকতবৎসল-প্রতিপালকী।।
বাজে ঘণ্টা-তাল,- মৃদঙ্গ-ঝাঁঝরি,’’
ভাল বাজে নন্দরাজ-মহলে

মদনগোপালের আরতি-কালে—ভাল বাজে নন্দরাজ-মহলে

‘‘অঞ্জলি কুসুম-গুলালকী।
হুঁ হুঁ বলি বলি, রঘুনাথ-দাস গোস্বামী,’’
গোসাঞি,–আর ত’ কিছু বল্‌তে নারে

আরোপে আরতি হেরে—গোসাঞি,–আর ত’ কিছু বল্‌তে নারে

গোসাঞির,–প্রেমে কণ্ঠ রোধ হল রে
কেবল,–হুঁহু হুঁহুঁ হুঁহুঁ হুঁহুঁ করে

গোসাঞিএর,–বয়ান ভাসে নয়ান-নীরে—কেবল,–হুঁহুঁ হুঁহুঁ হুঁহুঁ হুঁহুঁ করে
নন্দগ্রামের পানে চেয়ে—কেবল,–হুঁহুঁ হুঁহুঁ হুঁহুঁ করে

শ্রীকুণ্ডৃ-তীরে গড়ি যায় রে

বলে,–তবৈবাস্মি তবৈবাস্মি—শ্রীকুণ্ড-তীরে গড়ি যায় রে
‘বলে,–তবৈবাস্মি তবৈবাস্মি’—
রাধে,–ত্বয়া বিনা না জীবামি—বলে,–তবৈবাস্মি তবৈবাস্মি

রাধে,–আমি তোমার আমি তোমার

আমি,–তোমা বিনে বাঁচি না গো—রাধে,–আমি তোমার আমি তোমার

এত বলি,–শ্রীকুণ্ড-তীরে গড়ি যায় রে

‘‘হুঁ হুঁ বলি বলি, রঘুনাথ-দাস গোস্বামী,
মোহন-গোকুল-লালকী।।’’
‘‘আরতি কিয়ে জয় জয়মদনগোপালকী।’’
মদনগোপাল জয় জয় যশোদাদুলালকী।।
যশোদাদুলাল জয় জয় নন্দদুলালকী।
নন্দদুলাল জয় জয় গিরিধারীলালকী।।
গিরিধারীলাল জয় জয় রাধারমণলালকী।
রাধারমণলাল জয় জয় রাধাকান্তলালকী।
রাধাকান্তলাল জয় জয় রাধাবিনোদলালকী।
রাধাবিনোদলাল জয় জয় গোবিন্দগোপালকী।
গোবিন্দগোপাল জয় জয় গৌরগোপালকী।
গৌরগোপাল জয় জয় শচীর দুলালকী।।
শচীর দুলাল জয় জয় নিতাই-দয়ালকী।
নিতাই-দয়াল জয় জয় সীতা-অদ্বৈত-দয়ালকী।।
অদ্বৈত-দয়াল জয় জয় গদাধরলালকী।
গৌর,–গদাধরলাল জয় জয় শ্রীবাস-দয়ালকী।।
শ্রীবাস-দয়াল জয় জয় গৌর-ভক্তবৃন্দলালকী।
গৌর,–ভক্তবৃন্দলাল জয় জয় শ্রীগুরু-দয়ালকী।।
পরম-করুণ প্রেমদাতা শ্রীগুরু-দয়ালকী।
ভজ ভজ ভজ ভাই রে শ্রীগুরু-দয়ালকী।।
শুভ,–আরিত কিয়েজয় জয় শ্রীমদনগোপালকী।।’’

——–

শ্রীশ্রীতুলসীদেবীর সন্ধ্যা-আরতি

—ঃঃ—

(১)
‘‘নমোনমঃ তুলসি মহারাণি,
বৃন্দেজী মহারাণি নমোনমঃ।। ধ্রু।।
যাঁকো দরশে, পরশে অঘ নাশই,
মহিমা বেদ-পুরাণে বাখানি।।
যাঁকো পত্র, মঞ্জরী কোমল,
শ্রীপতি-চরণ-কমলে লপটানি।
(রাধাপতি-চরণ-কমলে লপটানি।)
ধন্য তুলসি, পূরণ তপ কিয়ে,
শালগ্রামকী-মহাপাটরাণি।।
ধূপ দীপ, নৈবেদ্য আরতি,
ফুলন কিয়ে বরখা-বরখানি।
ছাপ্পান্ন-ভোগ, ছত্রিশ-ব্যঞ্জন,
বিনা তুলসী প্রভু এক না মাানি।।
শিব-সনকাদি, আউর ব্রহ্মাদিক,
ঢুরত ফিরত মহামুনি জ্ঞানী।
চন্দ্রসখী মেঁইয়া, তেরী যশ গাওয়ে,
ভকতি-দান দিজিয়ে মহারাণি।।

——–

(২)
‘‘নমোনমঃ তুলসি কৃষ্ণপ্রেয়সি।
রাধাকৃষ্ণ-সেবা পাব এই অভিলাষী।।


যে তোমার শরণ লয়, তার বাঞ্ছা পূর্ণ হয়,
যে তোমার শরণ লয়’’

ওগো,–ওগো বৃন্দে মহারাণি—‘‘যে তোমার শরণ লয়’’

আমি,–তাই জেনে শরণ নিলাম

ওগো,–ওগো বৃন্দে মহারাণি—আমি,–তাই জেনে শরণ নিলাম
ওগো,–দয়াময়ি বৃন্দে মহারাণি—আমি,–তাই জেনে শরণ নিলাম

আমার,–বাঞ্ছা পুরাইতে হবে

ওগো,–বাঞ্ছা-পূর্ত্তি-কারিণি দেবি—আমার,–বাঞ্ছা পূরাইতে হবে

আমি,–তাই ভেবে শরণ নিলাম

আমার,–বাঞ্ছা পূরণ হবে জেনে—আমি,–তাইভেবে শরণ নিলাম

‘‘যে তোমার শরণ লয়, তার বাঞ্ছা পূর্ণ হয়,
কৃপা করি কর তারে বৃন্দাবন-বাসী।
মোর মনে এই অভিলাষ, বিলাস-কুঞ্জে পাব বাস,’’

আমার,–বহুদিনের আশা আছে

যুগল,–বিলাস-কুঞ্জে বাস পাব—আমার,–বহুদিনের আশা আছে

‘‘মোর মনে এই অভিলাষ, বিলাস-কুঞ্জে পাব বাস,
নয়নে হেরিবসদা যুগল-রূপ-রাশি।।’’

ওগো,–ওগো বৃন্দে মহারাণি

আমায়,–আনুগত্যে সেবা দিও—ওগো,–ওগো বৃন্দে মহারাণি
‘আমায়,–আনুগত্যসেবা দিও’—
শ্রীগুরু-রূপ-সখীর-আনুগত্যে সেবা দিও

ওগো,–ওগো বৃন্দে মহারাণি

‘‘এই নিবেদন ধর, সখীর অনুগা কর,
কুঞ্জে যুগল-সেবা দিয়ে কর রাধা-দাসী।
দীন-কৃষ্ণদাসে কয়, এই যেন মোর হয়,’’

আমিআর কিছু—চাই না গো বৃন্দে রাণি

যুগল-চরণ-সেবা বিনে—আমি আর কিছু—চাই না গো বৃন্দেরাণি

আমি,–চাইলেও তুমি দিও না গো

‘দুর্ব্বাসনার বশে কত কি চাইব—আমি,–চাইলেও তুমি দিও না গো
‘দুর্ব্বাসনার বশে কত কি চাইব’—
ধর্ম্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষাদি—দুর্ব্বাসনার বশে কত কি চাইব
ধন, জন, কবিতা, সুন্দরী-দুর্ব্বাসনার বশে কত কি চাইব
লাভ, পূজা, প্রতিষ্ঠাদি—দুব্বার্সনার বশে কত কি চাইব
আমি,–চাইলেও তুমি দিও না গো

[মাতন]

শ্রীরাধাগোবিন্দ-সেবা বিনে—আমি,–চাইলেও তুমি দিও না গো

‘‘দীন-কৃষ্ণদাসে কয়, এই যেন মোর হয়,
শ্রীরাধাগোবিন্দ-পদে সেবা অভিলাষী।।’’
‘‘নিতাই-গৌরাঙ্গ-প্রেমেসদা আমি ভাসি।।’’

———-

শ্রীশ্রীগুরু-বন্দনা

—ঃঃ—-

‘‘জয় জয় শ্রীগুরু,প্রেম-কলপ-তরু,’’
বল ভাই—‘‘জয় জয় শ্রীগুরু,’’

একবার,–জয় দাও ভাই

পরম-করুণ শ্রীগুরুদেবের-জয় দাও ভাই
অযাচিত-কৃপাকারীপ্রভুর—জয় দাও ভাই
অদোষ-দরশী প্রভুর—জয় দাও ভাই
অগতির গতিদাতা প্রভুর—জয় দাও ভাই
শ্রীগুরু-স্বানন্দদাতার—জয় দাও ভাই

‘‘জয় জয় শ্রীগুরু, প্রেম-কলপ-তরু,’’

তুলনা হয় না

কলপ-তরুর সনে—তুলনা হয় না

সে ত’,–না চাহিলে দেয় না রে

কল্প-তরু বলে যারে—সে ত,’—না চাহিলে দেয় না রে
তার,–কাছে গিয়ে দাও বলে—সে ত’,–না চাহিলে দেয় না রে

তার,–কাছে না গেলে ত’ দেয় না রে

বাঞ্ছিত ফল—তার,–কাছে না গেলে ত’ দেয় না রে

এ যে,–অপরূপ প্রেম-কল্পতরু
সেধে যেচে বিলায় রে

চির-অনর্পিত প্রেমফল—সেধে যেচে বিলায় রে
‘চির-অনর্পিত প্রেমফল’—
যা,–কিশোরীর ভাণ্ডারের নিধি-চির-অনর্পিত প্রেমফল
যা,–ব্রহ্মাদিরও সুদুর্ল্লভ—চির-অনর্পিত প্রেমফল
যা,–কোটিকল্প কঠোরৈ সাধনেও মিলে না—চির-অনর্পিত প্রেমফল
যা,–গোলোকে গোপনে ছিল—সেই,–চির-অনর্পিত প্রেমফল

সেধে যেচে বিলায় রে

গিয়ে,–আচণ্ডালের দ্বারে দ্বারে –সেধে যেচে বিলায় রে

তাই বলি,–তুলনা হয় না

প্রাকৃত,–কল্পতরুর সনে—তুলনাহয় না
‘‘অদ্ভুত যাঁহাক প্রকাশ।’’

অতি,–অদ্ভুদ প্রকাশ ভাই

অদ্বয়-ব্রহ্ম,–শ্রীনন্দনন্দনের—অতি,–অদ্ভুত প্রকাশ ভাই
ও,–‘‘জীবের নিস্তার লাগি নন্দসুত হরি।
ভুবনে প্রকাশ হনগুরু-রূপ ধরি।।’’

গুরু-রূপে অদ্ভুত প্রকাশ
তাই বলি অতি,–অদ্ভুত প্রকাশ ভাই

‘‘হিয়া-অগেয়ান,- তিমির বর-জ্ঞান,-
সুচন্দ্র-কিরণে করু নাশ।।’’

হিয়ার,–অজ্ঞান-আঁধার দূর কৈলেন

বর-জ্ঞান-সুচন্দ্র-কিরণ প্রকাশে—হিয়ার,–অজ্ঞান-আঁধার দূর কৈলেন

কিসে বা গণি রে

চন্দ্র-সূর্য্যের প্রকাশ—কিসে বা গণি রে

তারা,–বাহিরের তাপ-তমঃ নাশে

উদয় হয়ে আকাশে—তারা,–বাহিরের তাপ-তমঃ নাশে

এ যে,–ভিতর বাহির আলো করে
হৃদয়ের পাপ-তমঃ নাশে

উদয় হয়ে হৃদ্-আকাশে—হৃদয়ের পাপ-তমঃ নাশে
‘‘সুচন্দ্র-কিরণে করু নাশ।।
ইহঁ লোচন-আনন্দধাম।’’

লোচন-আনন্দধাম

শ্রীগুরু-মুরতি খানি—লোচন-আনন্দধাম

ইহঁ লোচন-আনন্দধাম।
অযাচিত মো হেন, পতিত হেরি যো পহুঁ।
যাচি দেওল হরিনাম।।’’

আমায়,–সেধে যেচে নাম দিলেন
আমি,–কখনও ত’ জানতাম না ভাই

এমন,–নাম-আমিয়া আছি বলে—আমি,–কখনও ত জান্‌তাম না ভাই

আমি—কখনও ত চাই নাই ভাই

হরিনাম দাও বলে—আমি,–কখনও ত চাই নাই ভাই

আমায়,–সেধে যেচে নাম দিলেন

বাহু পসারি হিয়ায় ধরে—আমায়,–সেধে যেচে নাম দিলেন

ধর,–ধর নামের মালা পর

কেন মিছে,–ত্রিতাপ-জ্বালায় জ্বলে মর—ধর,–নামের মালা পর
এ যে ত্রিতাপ হর—ধর, নামের মালা পর

হরি,–নামের মালা কণ্ঠে পর
বল,–‘‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরেহরে।
বল,–হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।’’
ধর,–পর হরিনামের মালা

ওরে ও কলিহত-জীব—পর হরিনামের মালা
দূরেযাবে ত্রিতাপ-জ্বালা—পর হরিনামের মালা
যাবে জ্বালা,–পাবে নন্দলালা—পর হরিনামের মালা

[মাতন]

হয়ে ব্রজবালা,–পাবে নন্দলালা—পর হরিনামের মালা

[মাতন]
আমায়,–সেধে যেচে নাম দিলেন

‘‘যাচি দেওল হরিনাম।।
আমি,–দূরমতি অগতি, সতত অসতে মতি,
আমার,–‘‘নাহি সুকৃতি নব লেশ।

আমি,–দুরমতি অগিত

আমার,–নাহি কোনও সুকৃতি—আমি,–দুরমতি অগতি
আমার,–অসৎসঙ্গে সদা বসতি—আমি,–দুরমতি অগতি

সুকৃতির ত’ লেশ ছিল না

আমার,–কোনও জন্ম-জন্মান্তরের—সুকৃতি ত লেশ ছিল না
আমি,–শ্রীগুরুকৃপা পেতে পারি—এমন কোন,–সুকৃতির ত, লেশ ছিল না

আমার,–‘‘নাহি সুকৃতি নব লেশ।
শ্রীবৃন্দাবন, যুগল ভজন ধন,
মোহে করল উপদেশ।।’’

নিজগুণে জানাইলেন

ব্রজে,–রাধাকৃষ্ণপ্রাপ্তির উপায়—নিজগুণে জানাইলেন

আমায়,–কৃপা করে জানাইলেন

যুগল-ভজন-কথা—আমায়,–কৃপা করে জানাইলেন

আ’মরি কি করুণা রে

করুণার বালাই লয়ে মরে যাই—আ’ মরি কি করুণা রে

‘‘মোহে করল উপদেশ।।
নিরমল-গৌর- প্রেমরস সিঞ্চ নে,’’

আ’মরি—নিরমল নিরমল

গৌর আমার,–উন্নত-উজ্জ্বল-নিরমল নিরমল
মহা,–রাস-বিলাসের পরিণতি—নিরমল নিরমল
‘মহা,–রাস-বিলাসের পরিণতি’—
রাই কানু একাকৃতি—মহা,–রাস-বিলাসের পরিণতি,

[মাতন]
আ’মরি,–নিরমল নিরমল
ও,–‘‘নিরমল-গৌর,- প্রেমরস সিঞ্চ নে,
পূরল সব-মন-আশ।’’
আমার,-সকল-আশা পূরণ কৈলেন

আশার অতীত-ধন দিয়ে—আমার,–সকল-আশা পূরণ কৈলেন
‘আশার অতীত-ধন দিয়ে’—
আমি যা স্বপনেও কভু ভাবি নাই—আশার অতীত-ধন দিয়ে

আমার,–সকল-আশা পূরণ কৈলেন

‘‘পূরল সব-মন-আশ।
সো চরণাম্বুজে, রতি নাহি হোয়ল,’’
(দয়াল-গুরু-চরণাম্বুজে, রতি নাহি হোয়ল)

আমার,–রতি মতি হল না ভাই

শ্রীগুরু-চরণাম্বুজে—আমার,–রতি মতি হল না ভাই

কি হবে আমার গতি

শ্রীগুরু-চরণে হল না রতি—কি হবে আমার গতি

ভাই,–সেই তো উত্তমা গতি

শ্রীগুরু-চরণে রতি—সেই তো উত্তমা গতি

[মাতন]
আমার গতি কি বা হবে
আমি,–একদিনও ত’ ভ’জ্‌লাম না ভাই

নিষ্কপটে শ্রীগুরু-চরণ—একদিনও ত’ ভজ্‌লাম না ভাই

আমি,–ভুলেও একবার বল্‌লাম না ভাই

ভজার কথা দূরে থাক—আমি,–ভুলেও একবার বল্‌লাম না ভাই
হা,–গুরুদেব তোমার হলাম বলে—আমি,–ভুলেও একবার বল্‌লাম না ভাই
‘হা,–গুরুদেব তোমার হলাম বলে’—
মায়ার দাসত্ব ছেড়ে—হা,–গুরুদেব তোমার হলাম বলে

মুখেও একবার বল্‌লাম না ভাই
তাই বলি,–আমার গতি কি বা হবে

‘‘ধিক্‌ ধিক্‌ জীবনে-কি আশ ?’’
‘‘রোয়ত বৈষ্ণব-দাস।।’’

এই কৃপা কর সকলে

ওগো,–বালক, বৃদ্ধ, পুরুষ, নারী—এই কৃপা কর সকলে

যেন,–অবিচারে বিকাইতে পারি

পরম-করুণ-শ্রীগুরুপদে—যেন,–অবিচারে বিকাইতে পারি

যেন,–আজ্ঞাপালন করতে পারি

কায়-মনো-বাক্য-দ্বারা—যেন,–আজ্ঞাপালন করতে পারি

যেন,–কখনও না হই স্বতন্তরী

শ্রীগুরু-চরণ বিস্মরি—যেন,–কখনও না হই স্বতন্তরী

যেন,–প্রাণভরে গাইতে পারি

ভাই ভাই ভাই মিলে—যেন—প্রাণভরে গাইতে পারি
তাঁর,–কৃপাদত্ত নামাবলী—যেন,–প্রাণভরে গাইতে পারি

আমরা,–যারে দেখি তারেই বলি

‘‘ভজ নিতাই গৌর রাধে শ্যাম।
জপ হরে কৃষ্ণ হরে রাম।।’’

[মাতন]
———–

জয়দেবী

(গুর্জ্জরী)

হরি,–‘‘শ্রিত-কমলা-কুচমণ্ডল, ধৃত-কুণ্ডল
কলিত-ললিত-বনমাল।
জয় জয় দেব হবে।। ধ্রু।।
(জয় জয় রাধে কৃষ্ণ গোবিন্দ গোপাল,
জয় জয় যশোদাদুলাল,
ভজ ভজ নন্দলাল,
জয় জয় গিরিধারীলাল
জয় জয় দেব হরে।।)
দিনমণি-মণ্ডল-মণ্ডন, ভব-খণ্ডন,
মুনিজন-মানস-হংস।
(জয় জয়দেব হরে।।)
কালিয়া-বিষধর-গঞ্জন, জন-রঞ্জন,
যদুকুল-নলিন—দিনেশ।
(জয় জয় দেব হরে।।)
মধু-মুর-নরক-বিনাশন, গুরুড়াসন,
সুরকুল-কেলি-নিদান।
(জয় জয় দেব হরে।।)
অমল-কমল-দল-লোচন, ভব-মোচন,
ত্রিভুবন-ভবন-নিধান।
(জয় জয় দেব হরে।।)
জনকসূতা-কৃত-ভুষণ, জিত-দূষণ,
সমর-শমিত-দশকণ্ঠ।
(জয় জয় দেব হরে)
অভিনব-জলধর-সুন্দর, ধৃত-মন্দর,
শ্রীমুখ-চন্দ্র-চকোর।
(জয় জয় দেব হরে।।)
তব চরণে প্রণতা বয়মিতি ভাবয়,
কুরু কুশলং প্রণতেষু।
(জয় জয় দেব হরে।।)
শ্রীজয়দেব-কবেরিদং কুরুতে মুদং
মঙ্গলমুজ্জ্বা-গীতি।
(জয় জয় দবে হরে।।)
(জয় জয় রাধে কৃষ্ণ গোবিন্দ গোপাল,
জয় জয় যশোদাদুলাল,
ভজ ভজ নন্দলাল,
জয় জয় গিরিধারিলাল।
জয় জয় দেব হরে।।)


জয় জয় রাধা-মাধব, রাধা-মাধব রাধে।

জয়দেবের প্রাণধন হে ।।


জয় জয় রাধা-মদনগোপাল, রাধা-মদনগোপাল রাধে।

সীতানাথের প্রাণধন হে।


জয় জয়রাধা-গোবিন্দ, রাধা-গোবিন্দ রাধে।

রূপগোস্বামীর প্রাণধন হে।।

জয় জয় রাধা-মদনমোহন, রাধা-মদনমোহন রাধে।

গোসাঞি সনাতনের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-গোপীনাথ, রাধা-গোপীনাথ রাধে।

মধুপণ্ডিতের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-দামোদর, রাধা-দামোদর রাধে।

জীবগোস্বামীর প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-রাধারমণ, রাধা-রাধারমণ, রাধে।

গোপালভট্টের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-রাধাবিনোদ, রাধা-রাধাবিনোদ রাধে।

লোকনাথের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-গিরিধারী, রাধা-গিরিধারী রাধে।

দাসগোস্বামীর প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-বঙ্কুবিহারী, রাধা-বঙ্কুবিহারী রাধে।

স্বামী-হরিদাসের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-রাধাকান্ত, রাধা-রাধাকান্ত রাধে।

বক্রেশ্বরের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-রাধাবল্লভ, রাধা-রাধাবল্লভ রাধে।

হরিবংশের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-রাধামাধব, রাধা-রাধামাধব রাধে।

আচার্য্য-প্রভুরপ্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-ব্রজমোহন, রাধা-ব্রজমোহন রাধে।

স্বামী-হরিদাসের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-রাধাকান্ত, রাধা-রাধাকান্ত রাধে।

বক্রেশ্বরের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-রাধাবল্লভ, রাধা-রাধাবল্লভ রাধে।

হরিবংশের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-রাধামাধব, রাধা-রাধামাধব রাধে।

আচার্য্য-প্রভুর প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-ব্রজমোহন, রাধা-ব্রজমোহন রাধে।

নরোত্তমের প্রাণধন হে।।


জয় জয় রাধা-গোকুলানন্দ, রাধা-গোকুলানন্দ রাধে।

চক্রবর্ত্তীর প্রাণধন হে।।’’
———-

ভজ নিতাই গৌর রাধে শ্যাম।
জপ হরে কৃষ্ণ হরে রাম।।

[মাতন]


গৌর-হরিবোল,হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল

[মাতন]

বোল হরিবোল, নিতাই-গৌর-হরিবোল।

[মাতন]

প্রেম্‌সে কহো শ্রীরাধে শ্রীকৃষ্ণবলিয়ে—
প্রভু নিতাই শ্রীচৈতন্য অদ্বৈত শ্রীরাধারাণীকী জয় !
প্রেমদাতা পরম-দয়াল পতিত-পাবন শ্রীনিতাইচাঁদকী জয় !
করুণাসিন্ধু গৌর-ভক্তবৃন্দকী জয় !
শ্রীশ্রীনবদ্বীপ-নীলাচল-বৃন্দাবন-ধামকী জয় !
শ্রীশ্রীনাম-সঙ্কীর্ত্তনকী জয় !
শ্রীশ্রীখোল-করতালকীজয় !
আপন আপন শ্রীগুরুদেবকী জয়।
প্রেমদাতা পরম-দয়াল পতিত-পাবন—
শিশু-পশু-পালক বালক-জীবন শ্রীমদ্ রাধারমণকী জয় !

শ্রীগুরু-প্রেমানন্দে নিতাই-গৌর-হরিবোল।।

———–


অভিসার আক্ষেপানুরাগ কুঞ্জভঙ্গ খণ্ডিতা গীতগোবিন্দ গোষ্ঠলীলা দানলীলা দূতী ধেনুবৎস শিশুহরণ নৌকাখন্ড পূর্বরাগ বংশীখণ্ড বিপরীত বিলাস বিরহ বৃন্দাবনখন্ড ব্রজবুলি বড়াই বড়াই-বচন--শ্রীরাধার প্রতি মাথুর মাধবের প্রতি দূতী মান মানভঞ্জন মিলন রাধাকৃষ্ণসম্পর্ক হীন পরকীয়া প্রেমের পদ রাধা বিরহ রাধিকার মান লখিমাদেবি শিবসিংহ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন শ্রীকৃষ্ণের উক্তি শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ শ্রীকৃষ্ণের মান শ্রীকৃষ্ণের স্বয়ংদৌত্য শ্রীগুরু-কৃপার দান শ্রীরাধা ও বড়াইয়ের উক্তি-প্রত্যুক্তি শ্রীরাধার উক্তি শ্রীরাধার প্রতি শ্রীরাধার প্রতি দূতী শ্রীরাধার রূপবর্ণনা শ্রীরাধিকার পূর্বরাগ শ্রীরাধিকার প্রেমোচ্ছ্বাস সখীতত্ত্ব সখীর উক্তি সামোদ-দামোদরঃ হর-গৌরী বিষয়ক পদ